বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে মির্জা ফখরুলকে কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হবে না। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান।
পুলিশ ঢুকতে না দেয়ায় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে বসে পড়েন মির্জা ফখরুল।
এর আগে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও দলটির নেতা শিমুল বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ।
দুপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি কর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনের সড়কে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে উভয়পক্ষ বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিকেল পাঁটার দিকেও থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। পুলিশও বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেয়া বিএনপির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের জটলা বেশি ছিল। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে এ্যানিও উপস্থিত ছিলেন। আব্বাসের সঙ্গে অনেক নেতা-কর্মী নয়াপল্টনে জড়ো হন।
বিএনপির সমাবেশ নিয়ে রাজনীতি অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। অন্যদিকে সরকার সেখানে সমাবেশ করতে দিতে নারাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে বিএনপি বলছে, তারা সেখানে সমাবেশ করবে না। বিকল্প হিসেবে তারা আরামবাগের কথা বললেও পুলিশ বলছে রাস্তায় কোনোভাবেই সমাবেশ করা যাবে না।
এর মধ্যে বুধবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকার অথবা আওয়ামী লীগকে নয়াপল্টনের বিকল্প জায়গায় নাম প্রস্তাব করতে হবে। না হলে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করবে।