দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শনিবার (১৮ নভেম্বর) আবেদনপত্র বিক্রি শুরু করেছে। রবিবার দ্বিতীয় দিনে এক হাজার ২১২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১৮০টি, আর অনলাইনে বিক্রি হয়েছে ৩২টি।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রবিবার দ্বিতীয় দিনে সকাল ১০ থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রি শেষে দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানান।
রবিবার মনোনয়নপত্র কিনেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, ভোলা-১ আসন থেকে বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ ও ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, ভোলা-২ ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, ভোলা-৩ আসন থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও এফবিসিসিআই সদস্য মো. রাকিব হাসান সোহেল, শরীয়তপুর-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম এনামুল হক শামীম, মৌলভীবাজার-১ আসন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস. এম জাকির হোসাইন, ফরিদপুর-১ আসন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত কিদার, কুমিল্লা-১০ আসন থেকে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম, চাঁদপুর-৩ আসন থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা-১৮ আসনের ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সুনামগঞ্জ-২ আসনে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, পাবনা-৫ আসন থেকেরা রাষ্ট্রপতির ছেলে আরশাদ আদনান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি।
রবিবার সকাল থেকেই মনোনয়নপত্র কিনতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশের গলিতেও ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের ভীড়।
শনিবার প্রথম দিনে সরাসরি ও অনলাইনে মোট এক হাজার ৬৪টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে দলটি। এতে তাদের আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এদিন জানান, এক হাজার ৬৪টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে সরাসরি বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫০টি আর অনলাইনে বিক্রি হয়েছে ১৪টি।
মনোনয়নপত্র কেনার পর গণমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য রাবিক হাসন সোহেল বলেন, ‘আমি জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের সেবার জন্যে কাজ করে যাব। জাতির জনকের হাতেগড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি। করোনার সময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। আমার বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। আর আমি এমপি হলে এলাকার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করব।’
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত দুইবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এবারও যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি জনগণের জন্য আবারও কাজ করার সুযোগ পাব।
’গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ আরও বলেন, ‘আমি সারা বছরই আমার নির্বাচনি এলাকায় যাই, সব মানুষের পাশে থেকেছি। সারা বছর সকল কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও আমি নির্বাচনি এলাকায় গিয়েছি। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সব মানুষের জন্য কাজ করেছি। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি আশা করি—দলমত নির্বিশেষে সবাই আমাকে নির্বাচিত করবে।’
‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী’ বলে মন্তব্য করেছেন চিত্রনায়িকা ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহিয়া মাহি। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এরপর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের মতামতের নেওয়া হলে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে, ইনশাআল্লাহ। এলাকার সাধারণ মানুষেরা উৎসাহ দিয়েছেন, তারা আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান বলেই আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। ’তবে মনোনয়ন না পেলেও দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেও একইভাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন মাহি। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নৌকাকে জয়যুক্ত করা। যেই মনোনয়ন পাক, যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে নৌকার জন্য সর্বোচ্চ কাজ করব।’
যদিও মাহি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের মতামতের নেওয়া হলে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে, ইনশাআল্লাহ। এলাকার সাধারণ মানুষেরা উৎসাহ দিয়েছেন, তারা আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান বলেই আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।’