সমাবেশের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পুলিশের অনুমতি পেলেও তা মেলেনি জামায়াতে ইসলামীর। এরপরও শনিবার রাজধানীর মতিঝিল নটরডেম কলেজের সামনে সমাবেশ করে গেল ধর্মভিত্তিক দলটি।
শনিবার দুপুরের ওই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির বলেন, ‘সেদিন আমাদের কিছু ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। আমরা তার প্রতিশোধ নিতে চাই। তবে আমরা হত্যার বদলে হত্যা করে প্রতিশোধ নিবো না। আমাদের প্রতিশোধ হবে শহীদ ভাইদের অপূর্ণ কাজকে পূর্ণতা দেওয়া।’
জামায়াত নেতা মুজিবুর বলেন, ‘আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এ দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনব। সৃষ্টি যার, আইন তার। এ নীতিতেই আমাদের দেশ চলবে। তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া এ দেশে আর কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।
‘আমাদের জামায়াতে ইসলামীর আমির, সেক্রেটারিসহ অসংখ্য নেতাকর্মী জেলে বন্দি। অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা-হামলায় আক্রান্ত। তবুও আমরা ঈমান হারা হইনি। জুলুমের মধ্যে থেকেও আমরা আদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’
অধ্যাপক মুজিব বলেন, ‘বর্বর ইসরায়েল সাধারণ ফিলিস্তনিদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এর মধ্যে এ সরকার আমাদের সঙ্গেও জুলুম করেছে গত ১৫ বছর ধরে। আমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের দেখানো রাস্তায় নিজেদের পরিচালিত করে আমাদের বিজয় নিশ্চিত করবো।’
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কারো উস্কানিতে পা দেবেন না। সব নেতাকর্মী শাহজাহানপুর হয়ে মানিকনগর বিশ্বরোড দিয়ে চলে যাবেন। কোনো প্রকার হামলা করবেন না। মানুষের জানমালের ক্ষতি করবেন না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ শেষ করে জামায়াত।’