নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এখন এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে। এই সরকারের কোন জনভিত্তী নেই। তারা দিনের ভোট রাতে করে এই সরকার গঠন করেছে। এই সরকারে নৈতিক কোন ভিত্তি নাই। কাজেই জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সরকার বিদায় হোক। তারা জনগণের সকল অধিকার হরণ করেছে। এ কারণেই দেশের মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আজকের রোডমার্চে হাজার হাজার গাড়ী, লক্ষ লক্ষ জনতার জনস্রোত তাই প্রমাণ করে।
রোববার (১ অক্টোবর) সকালে এক দফা দাবিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বগার বাজার এলাকায় বিএনপির বিভাগীয় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রোডমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধনীতে এমন হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
ড. মঈন বলেন, ৫২ বছর আগে যে উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল তা অবৈধ সরকার ধ্বংস করেছে। আজ মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়েছে। সরকার বাকশাল কায়েম করেছে। অবৈধ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবো, রাজপথ ছেড়ে যাবো না। সরকারকে বাধ্য করা হবে ক্ষমতা থেকে সরাতে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে অগণতান্ত্রিক সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজানো হবে।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেই শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুট হয়। বিদেশে অর্থ পাচার হয়। আগে সেকেন্ড হোম বলতে কিছু ছিল না এবং বেগমপাড়াও ছিল না। সব আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। রোডমার্চ ঘিরে উজ্জীবিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।
আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু ও আলমগীর মাহমুদ আলম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খানসহ অন্যরা। উদ্বোধনী সভা শেষে রোডমার্চের গাড়িবহর বগারবাজার থেকে রওয়ানা হয়। এরপর চুরখাই বাজার, বাইপাস মোড়, কেওয়াটখালী, শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ, চায়না মোড়, শম্ভুগঞ্জ বাজার, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল হয়ে কিশোরগঞ্জে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বগারবাজার এলাকায় সমাবেশের মধ্য এই রোডমার্চ শুরু হয়। এতে নেতাকর্মীদের বহনকারী শত শত গাড়ী অংশগ্রহন করে।
প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জ অভিমুখে বিএনপির ১৪৪ কিলোমিটার র্দীঘ ময়মনসিংহ বিভাগীয় রোডমার্চের পথে পথে জনতার ঢল নামে। এ সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে রোডমার্চের শত শত গাড়ীবহরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোডমার্চের গাড়ী বহর দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার চূড়খাই এলাকায় পথসভা শেষ করে বেলা আড়াই টায় ময়মনসিংহ নগরীর চায়না মোড় এলাকায় মহানগর বিএনপি আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এদিকে রোডমার্চকে স্বাগত জানিয়ে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পথে পথে রোডমার্চকে স্বাগত জানান।
এই রোডমার্চের নেতৃত্ব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমূখ।