1. admin@bhorerkhariya.com : Admin :
  2. bhorerkharia@gmail.com : admin : admin
  3. mainulislammohin65@gmail.com : Cumilla News : মোঃ মাইনুল ইসলাম মহিন
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

গায়েবী মামলাকে হাতিয়ার করে চলছে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ণ ও হয়রানীর তান্ডব– প্রিন্স

রিপোর্টার
  • পোষ্ট হয়েছে মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ১২৭ বার দেখেছে
  • ই-পেপার দেখুন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
 গত ১১ ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী ইউনিয়ন পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মামলাবাজ, জুলুমবাজ সরকার ও আওয়ামী লীগের গায়েবী মামলার কথা অবহিত করেছিলাম। পদযাত্রার ৪ দিন পার হতে যাচ্ছে অথচ গায়েবী মামলার মিছিল থামছেই না। এই গায়েবী মামলাকে হাতিয়ার করে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর চলছে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ণ ও হয়রানীর তান্ডব।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এসব কথা বলেন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুরে এ ধরণের এক গায়েবী মামলায় ২১ নং আসামী করা হয়েছিল ফুলপুর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার পুত্র চানু মিয়াকে (৪০)। তিনি বিএনপি’র কোন নেতা কিংবা কর্মী নন, অতি সাধারণ একজন খেটে খাওয়া মানুষ। অথচ ইউনিয়ন পদযাত্রার কর্মসূচির দিন রাতে তাকে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা তার বাড়ীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠিয়ে হয়রানী করে, হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারী তিনি ফুলপুর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে সেখানেই জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মানসিকভাবে চরম ভেঙ্গে পড়েন এবং এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যুর দায় অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারকেই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের গায়েবী মামলা দায়েরের ঘটনা জ্যামিতিক হারে ঘটেই চলেছে এবং এ ধরণের গায়েবী মামলায় শহর থেকে গ্রাম নিরীহ সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে বিরত রাখার জন্য ভীত সন্ত্রস্ত রাখা হচ্ছে। তবে আওয়ামী অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর এই ভোঁতা কৌশলে সাধারণ মানুষসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে পিছপা হবে না। দমন-নিপীড়ণের সত্য ঘটনাকে গণবিচ্ছিন্ন সরকারের মন্ত্রী-নেতারা যতই গল্প হিসেবে অভিহিত করুন না কেন শান্তি সমাবেশের নামে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অসত্য বয়ানে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। জনগণ এখন ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। জনতার এই জাগরণ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীরা জেনে বুঝেও নিজেদের বাঁচাতে মরণকামড় দেয়া শুরু করেছে। তবে সময় খুবই সন্নিকটে যখন জাগ্রত মানুষের মরণছোবলে সরকারের ক্ষমতার অবৈধ মসনদ তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়বে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক বলেন, আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীরা কথায় কথায় সংবিধানের কথা বললেও তারা নিজেরাই তা লঙ্ঘন করছে। গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাজনীতিকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বেড়াজালে দেশবাসীকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। বাংলাদেশের গৌরবোজ্জল গণতান্ত্রিক চরিত্র আওয়ামী সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে, কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনে দেশ আজ ক্ষতবিক্ষত। আর যে কারণে অনেক অনুনয়-বিনয়ের পরেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জার।
তিনি আরও বলেন, দেশের আর্থিক অবস্থা এখন সরকার ও তাদের অনুগত লোকদের দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচারের কেলেঙ্কারীতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন এতটাই শোচনীয় যে রেকর্ড পরিমান টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছেড়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সরকার। দেশী-বিদেশী ঋণ এবং একই সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতিসহ জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির বোঝার ভারে দেশবাসীকে নুহ্য করে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যায়না। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী গণবিরোধী ও গণতন্ত্র বিধ্বংসী এই জালিম স সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।
সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে পদযাত্রা করবে জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল, ডাল, তেল, আটা, লবনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি ও দমন-নিপীড়ণের প্রতিবাদে এবং বেগম খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তি, গণতন্ত্র বিরোধী ও দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিষ্ট সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী সকল মহানগরে ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যান্য মহানগরে ১৮ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি হলেও ঢাকায় একদিন এগিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটায় মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে পৃথক পৃথক পদযাত্রা করা হবে। তিনি বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল মহানগর এবং এর অধীনস্থ সকল থানা, ওয়ার্ডসহ সকল ইউনিটের নেতাকর্মী, সমর্থকদের মহানগর পদযাত্রায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার আহবান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 bhorerkhariya.com
Theme Customized BY Themes Seller